থ্রি-ফেজ জেনারেটরের লোড ব্যালেন্সিং ও সঠিক নিয়মকানুন

থ্রি-ফেজ ডিজেল জেনারেটর ব্যবহারের সময় তিনটি ফেজে (R, Y, B) লোড বা অ্যাম্পিয়ার সমানভাবে বন্টন করা অত্যন্ত জরুরি। একে লোড ব্যালেন্সিং (Load Balancing) বলা হয়। লোড আনব্যালেন্সড থাকলে জেনারেটরের কয়েল এবং অল্টারনেটর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

থ্রি-ফেজ জেনারেটরের লোড ব্যালেন্সিং ও সঠিক নিয়মকানুন


১. থ্রি-ফেজ লোড আনব্যালেন্স কী এবং কেন ক্ষতিকর?

যখন জেনারেটরের তিনটি ফেজের একটিতে খুব বেশি কারেন্ট (Amps) প্রবাহিত হয় এবং অন্যগুলোতে কম থাকে, তখন লোড আনব্যালেন্স ঘটে।

সমস্যার ধরনইঞ্জিনের ওপর প্রতিক্রিয়া
নিউট্রাল কারেন্ট (Neutral Current)নিউট্রাল তার দিয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হয়, ফলে নিউট্রাল তার গরম হয়ে পুড়ে যেতে পারে।
অল্টারনেটর ওভারহিটিংযে ফেজে বেশি লোড থাকবে সেটির কয়েল অতিরিক্ত গরম হয়ে ইনসুলেশন নষ্ট হয়ে যাবে।
ভোল্টেজ ড্রপ ও ফ্ল্যাকচুয়েশনযে ফেজে লোড বেশি থাকবে সেটির ভোল্টেজ কমে যাবে এবং অন্য ফেজগুলোতে ভোল্টেজ বেড়ে যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে পারে।
গোল্ডেন রুল: জেনারেটরের তিনটি ফেজের লোডের পার্থক্য কোনো অবস্থাতেই ১০% থেকে ১৫%-এর বেশি হওয়া উচিত নয়।

২. লোড ব্যালেন্সিং হিসাবের বাস্তব উদাহরণ

মনে করি আপনার কাছে একটি ১০০ kVA (১৩৯ Amps প্রতি ফেজে) থ্রি-ফেজ জেনারেটর আছে এবং মোট লোড ৯০ অ্যাম্পিয়ার।

  • ভুল পদ্ধতি (Unbalanced):

    • Phase R: ৮০ Amps

    • Phase Y: ১০ Amps

    • Phase B: ০ Amps
      (এখানে R ফেজে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং নিউট্রালে তীব্র কারেন্ট ফ্লো হবে।)

  • সঠিক পদ্ধতি (Balanced):

    • Phase R: ৩০ Amps

    • Phase Y: ৩০ Amps

    • Phase B: ৩০ Amps
      (তিনটি ফেজেই সমান চাপ থাকবে, নিউট্রাল কারেন্ট শূন্যের কাছাকাছি থাকবে এবং জেনারেটর ঠান্ডা থাকবে।)

৩. সিঙ্গেল-ফেজ লোড থ্রি-ফেজে বন্টনের উপায়

কারখানায় সিঙ্গেল-ফেজ লোড (যেমন: লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, এসি, ছোট মেশিন) থাকলে তা মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডে (SDB) সমান তিন ভাগে ভাগ করে R, Y, B ফেজে কানেক্ট করতে হয়।

  • ফেজ ভাগ করার নিয়ম:

    • মোট সিঙ্গেল-ফেজ ওয়াটেজকে ৩ দিয়ে ভাগ করুন।

    • প্রতি ১০০০ ওয়াটের (1 kW) সিঙ্গেল-ফেজ লোডের জন্য প্রতি ফেজে আনুমানিক ৪.৫৫ অ্যাম্পিয়ার (at 220V) কারেন্ট যুক্ত হবে।

সঠিক সেটিংসের জন্য বাংলাদেশ জেনারেটর

অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে ওয়্যারিং বা সুইচবোর্ড করালে লোড আনব্যালেন্স হয়ে জেনারেটরের অল্টারনেটর পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়মিত ক্ল্যাম্প মিটার দিয়ে তিন ফেজের অ্যাম্পিয়ার মেপে ব্যালেন্স নিশ্চিত করা উচিত।

বাংলাদেশে বিশ্বমানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজেল জেনারেটর সরবরাহ এবং সঠিক ওয়্যারিং ও লোড ডিস্ট্রিবিউশন গাইডলাইন প্রদানে "বাংলাদেশ জেনারেটর" একটি শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বস্ত নাম। আপনার কারখানার সেফটি এবং প্রপার জেনারেটর সেটিংস নিশ্চিত করতে যেকোনো ক্রয়ের আগে "বাংলাদেশ জেনারেটর"-এর অভিজ্ঞ সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে অন্তত একবার পরামর্শ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
« Newer Older »