জেনারেটর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় হিসাব ও গাণিতিক সূত্র
শিল্প-কারখানা বা বাসাবাড়ির জন্য সঠিক ক্ষমতার জেনারেটর নির্বাচন, কারেন্ট (অ্যাম্পিয়ার) নির্ণয় এবং ডিজেল খরচের হিসাব বের করার সহজ ফর্মুলা নিচে দেওয়া হলো।
১. কেভিএ (kVA) থেকে কিলোওয়াট (kW) বের করার নিয়ম
জেনারেটরের গায়ে ক্ষমতা সাধারণত kVA এককে লেখা থাকে। প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ বা kW বের করতে পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor / PF) দিয়ে গুণ করতে হয়। জেনারেটরের স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার ফ্যাক্টর ধরা হয় ০.৮।
- সূত্র:$$\text{kW} = \text{kVA} \times \text{Power Factor (0.8)}$$
- উদাহরণ: একটি ১০০ kVA জেনারেটরের প্রকৃত ক্ষমতা:$$\text{kW} = ১০০ \times ০.৮ = ৮০ \text{ kW}$$
২. কেভিএ (kVA) থেকে ফুল লোড কারেন্ট (অ্যাম্পিয়ার) হিসাব
থ্রি-ফেজ (Three Phase - 415V) সিস্টেমে জেনারেটর সর্বোচ্চ কত অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট দিতে পারবে তা বের করার সূত্র:
- সূত্র:$$\text{Current (Amps)} = \frac{\text{kVA} \times ১০০০}{\sqrt{৩} \times ৪১৫} \approx \text{kVA} \times ১.৩৯$$
- উদাহরণ: ১০০ kVA জেনারেটরের মোট অ্যাম্পিয়ার:$$\text{Current} = ১০০ \times ১.৩৯ = ১৩৯ \text{ Amps (প্রতি ফেজে)}$$
সহজ টেকনিক: kVA-কে ১.৪ দিয়ে গুণ করলে আনুমানিক মোট অ্যাম্পিয়ার পাওয়া যায়।
৩. প্রয়োজনীয় লোড থেকে জেনারেটর সাইজ (kVA) নির্ধারণ
কারখানার মোট লোড যদি কিলোওয়াটে (kW) জানা থাকে, তবে কত kVA জেনারেটর লাগবে তা বের করতে ২০% সেফটি মার্জিন রাখতে হয়।
- Step ১ (প্রয়োজনীয় kVA):$$\text{Base kVA} = \frac{\text{Total Load in kW}}{\text{Power Factor (0.8)}}$$
- Step ২ (সেফটি মার্জিন সহ জেনারেটর kVA):$$\text{Generator kVA} = \text{Base kVA} \times ১.২৫$$
- উদাহরণ: আপনার মোট লোড ৫০ kW হলে:$$\text{Base kVA} = \frac{৫০}{০.৮} = ৬২.৫ \text{ kVA}$$$$\text{Generator kVA} = ৬২.৫ \times ১.২৫ = ৭৮.১২ \text{ kVA}$$(অতএব, আপনাকে ৮০ kVA বা ১০০ kVA-এর জেনারেটর বেছে নিতে হবে।)
৪. প্রতি ঘণ্টায় ডিজেল খরচ (Fuel Consumption) হিসাব
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজেল জেনারেটর ১০০% লোডে চললে প্রতি kW-ঘণ্টায় গড়ে ০.২৩ থেকে ০.২৫ লিটার ডিজেল খরচ করে।
| জেনারেটরের ক্ষমতা (kVA) | প্রকৃত ওয়াটেজ (kW) | ৫০% লোডে খরচ (লিটার/ঘণ্টা) | ৭৫% লোডে খরচ (লিটার/ঘণ্টা) | ১০০% লোডে খরচ (লিটার/ঘণ্টা) |
| ৩০ kVA | ২৪ kW | ৩.৫ - ৪.০ | ৪.৮ - ৫.২ | ৬.০ - ৬.৫ |
| ৫০ kVA | ৪০ kW | ৫.৫ - ৬.০ | ৭.৫ - ৮.০ | ১০.০ - ১০.৫ |
| ১০০ kVA | ৮০ kW | ১০.৫ - ১১.৫ | ১৫.০ - ১৬.৫ | ২০.০ - ২২.০ |
| ২০০ kVA | ১৬০ kW | ২১.০ - ২৩.০ | ৩০.০ - ৩৩.০ | ৪১.০ - ৪৪.০ |
৫. মোটরের স্টার্টিং লোড (Inrush Current) হিসাব
যেকোনো থ্রি-ফেজ মোটরের স্টার্ট নেওয়ার সময় স্বাভাবিক কারেন্টের চেয়ে ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি কারেন্ট লাগে (DOL Starter হলে)।
- স্টার্টিং kVA হিসাব:$$\text{Starting kVA} = \text{Motor HP} \times ৩$$
- উদাহরণ: কারখানায় ২০ HP-এর একটি মোটর থাকলে তা স্টার্ট করার সময় প্রায় ৬০ kVA তাৎক্ষণিক লোড টানে। তাই বড় মোটর থাকলে জেনারেটরের ক্ষমতা কিছুটা বাড়িয়ে ধরা আবশ্যক।
সঠিক জেনারেটর নির্বাচনে বাংলাদেশ জেনারেটর
ভুল হিসাবের কারণে ছোট বা অতিরিক্ত বড় জেনারেটর কিনলে তা আর্থিক ক্ষতি ও ইঞ্জিনের আয়ু হ্রাসের কারণ হয়।
বাংলাদেশে হেভি-ডিউটি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ডিজেল জেনারেটর আমদানিতে "বাংলাদেশ জেনারেটর" একটি শীর্ষস্থানীয় ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। আপনার কারখানার লোড ক্যালকুলেশন ও সঠিক ক্যানোপিসহ জেনারেটর ক্রয়ের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে "বাংলাদেশ জেনারেটর"-এর অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সাথে অন্তত একবার পরামর্শ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।