বাংলাদেশে ৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের মূল্য তালিকা এবং সম্পূর্ণ ক্রয় গাইড

বাংলাদেশের শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক ভবন এবং মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ৫০ কেভিএ (50 KVA) ডিজেল জেনারেটর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক ব্র্যান্ডের জেনারেটর নির্বাচন এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় নিশ্চিত করা ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী দক্ষতার জন্য অপরিহার্য। আপনি যদি আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন জেনারেটর ক্রয়ের চিন্তা করে থাকেন, তবে "বাংলাদেশ জেনারেটর" (Bangladesh Generator) দেশের অন্যতম সেরা ইম্পোর্টার এবং সাপ্লাইয়ার হিসেবে পরিচিত। জেনারেটর কেনার সিদ্ধান্ত নিলে অন্তত একবার হলেও বাংলাদেশ জেনারেটরের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

বাংলাদেশে ৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের মূল্য তালিকা এবং সম্পূর্ণ ক্রয় গাইড


এখানে রিকার্ডো (Ricardo), ইভল (Evol), কামিন্স (Cummins) এবং পারকিন্স (Perkins) ইঞ্জিনের ৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের বিস্তারিত মূল্য তালিকা, স্পেসিফিকেশন এবং ক্রয়ের নির্দেশিকা সংকলিত হলো।

৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের ব্র্যান্ড ভিত্তিক মূল্য তালিকা

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের দাম ব্র্যান্ডের সুনাম, অরিজিন, ক্যানোপির ধরণ (ক্যানোপিসহ সাইলেন্ট টাইপ বা ওপেন টাইপ) এবং অল্টারনেটরের মানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

ব্র্যান্ডের নাম (Engine Brand)দেশের নাম (Origin)সম্ভাব্য মূল্য সীমা (BDT)ক্যানোপির প্রকারভেদ (Type)
রিকার্ডো (Ricardo)চীন (China)৳ ৪,৫০,০০০ - ৳ ৬,০০,০০০সাইলেন্ট / ওপেন টাইপ
ইভল (Evol)চীন (China)৳ ৯,৫০,০০০ - ৳ ১০,৫০,০০০সাইলেন্ট ক্যানোপি টাইপ
কামিন্স (Cummins)আমেরিকা / চীন (USA/China)৳ ৯,৫০,০০০ - ৳ ১১,৫০,০০০সাউন্ডপ্রুফ সাইলেন্ট টাইপ
পারকিন্স (Perkins)ইউকে / যুক্তরাজ্য (UK)৳ ১১,০০,০০০ - ৳ ১৩,৫০,০০০ভারী ডিউটি সাইলেন্ট টাইপ

ব্র্যান্ড পরিচিতি এবং প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন

১. রিকার্ডো ৫০ কেভিএ জেনারেটর (Ricardo 50 kVA Generator)

রিকার্ডো জেনারেটর কম বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী সমাধান। যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে মাঝারি মানের ব্যবহার রয়েছে এবং বাজেট সীমিত, তাদের জন্য রিকার্ডো ইঞ্জিনের জেনারেটর উপযোগী।

  • ইঞ্জিন টাইপ: ৪ সিলিন্ডার ওয়াটার কুলড ডিজেল ইঞ্জিন।

  • জ্বালানি খরচ: আনুমানিক ৫ - ৬ লিটার প্রতি ঘণ্টা (৭৫% লোডে)।

  • সুবিধা: বাজারে এর পার্টস সহজলভ্য এবং মেকানিক সাপোর্ট দ্রুত পাওয়া যায়।

২. ইভল ৫০ কেভিএ জেনারেটর (Evol 50 kVA Generator)

ইভল ব্র্যান্ডের জেনারেটর আধুনিক প্রযুক্তি এবং মজবুত গঠনশৈলীর জন্য পরিচিত। এটি দীর্ঘ সময় ধরে অবিরত সেবা প্রদান করতে সক্ষম এবং এর ফুয়েল এফিশিয়েন্সি ভালো।

  • ইঞ্জিন প্রযুক্তি: অ্যাডভান্সড ডাইরেক্ট ইনজেকশন সিস্টেম।

  • কন্ট্রোলার: ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্ট কন্ট্রোল প্যানেল।

  • সুবিধা: কম শব্দ তৈরি করে এবং দীর্ঘ সময় কার্যক্ষম থাকে।

৩. কামিন্স ৫০ কেভিএ জেনারেটর (Cummins 50 kVA Generator)

বিশ্বখ্যাত কামিন্স ইঞ্জিন ভারী শিল্প এবং সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার ব্যাকআপ নিশ্চিত করে।

  • অরিজিন ও মান: বিশ্বমানের ইউএসএ প্রযুক্তি নির্ভর ভারী ইঞ্জিন।

  • স্থায়িত্ব: অতিমাত্রায় লোড নিতে সক্ষম এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের উপযোগী।

  • সুবিধা: কম মেইনটেন্যান্স খরচ এবং উচ্চমানের পারফরম্যান্স।

৪. পারকিন্স ৫০ কেভিএ জেনারেটর (Perkins 50 kVA Generator)

পারকিন্স হলো ডিজেল ইঞ্জিনের জগতে সেরা প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলির একটি। যেকোনো আবহাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী ভারী ব্যবহারে পারকিন্স ইঞ্জিনের কোনো বিকল্প নেই।

  • প্রযুক্তি: যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মূল প্রযুক্তি।

  • সাউন্ড লেভেল: সাউন্ডপ্রুফ ক্যানোপির কারণে শব্দদূষণ হয় না বললেই চলে।

  • সুবিধা: সর্বোচ্চ জ্বালানি দক্ষতা এবং পুনঃবিক্রয় মূল্য (Resale Value) অনেক বেশি।

৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ

৫০ কেভিএ (প্রায় ৪০ কিলোওয়াট) ধারণক্ষমতার জেনারেটর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাওয়ার সোর্স হিসেবে কাজ করে:

  • বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেট: লিফট, লাইটিং এবং এয়ার কন্ডিশনার চালানোর জন্য।

  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা: উৎপাদনমুখী অটোমেটেড রানিং মেশিনারি পরিচালনার জন্য।

  • হাসপাতাল ও ক্লিনিক: জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সিসিইউ সাপোর্ট সচল রাখতে।

  • আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট: একাধিক ফ্ল্যাটের পাম্প, লিফট এবং কমন স্পেসের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে।

  • রেস্টুরেন্ট ও সুপারশপ: কোল্ড স্টোরেজ এবং এসি ব্যাকআপ প্রদান করতে।

কেন "বাংলাদেশ জেনারেটর" থেকে জেনারেটর কিনবেন?

বাংলাদেশ জেনারেটর (Bangladesh Generator) দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ততার সাথে বাংলাদেশে আসল এবং উচ্চমানের ইম্পোর্টেড জেনারেটর সরবরাহ করে আসছে।

  • অরিজিনাল পণ্যের নিশ্চয়তা: সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ জেনুইন অরিজিনাল ইঞ্জিন এবং অল্টারনেটর ইম্পোর্ট করা হয়।

  • প্রফেশনাল ইনস্টলেশন ও ক্যাবলিং: অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম দ্বারা সম্পূর্ণ সেটিং এবং কমিশন সম্পন্ন করা হয়।

  • পর্যাপ্ত স্পেয়ার পার্টস: প্রতিটি মডেলের অরিজিনাল স্পেয়ার পার্টস সর্বদা স্টক থাকে।

  • ২৪/৭ বিক্রয়োত্তর সেবা: যেকোনো টেকনিক্যাল সমস্যায় দেশের যেকোনো প্রান্তে দ্রুত সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার পৌঁছানোর সুব্যবস্থা।

  • ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ: মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় সরাসরি আমদানিকারকের রেটে সঠিক দামে জেনারেটর পাওয়া যায়।

যে কোনো মডেলের জেনারেটর ক্রয়ের আগে তাদের অভিজ্ঞ টিমের সাথে পরামর্শ করে সঠিক ক্যাপাসিটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জেনারেটর কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

১. প্রকৃত লোড হিসাব করা: আপনার প্রতিষ্ঠানের কত ওয়াট বা কেভিএ লোড প্রয়োজন তা আগে হিসাব করুন। ৫০ কেভিএ জেনারেটরে সর্বোচ্চ ৪০ কিলোওয়াট পর্যন্ত লোড টানা সম্ভব।
২. ক্যানোপি টাইপ নির্বাচন: আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকায় সাউন্ডপ্রুফ ক্যানোপিসহ সাইলেন্ট জেনারেটর নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. অল্টারনেটর কোয়ালিটি: ভালো মানের কপার ওয়াইন্ডিং অল্টারনেটর (যেমন Stamford) নিশ্চিত করুন।
৪. ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস এগ্রিমেন্ট: বিক্রয়ের সাথে কত দিনের ওয়ারেন্টি এবং ফ্রি সার্ভিসিং সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে তা জেনে নিন।

বাংলাদেশে সঠিক মানের ডিজেল জেনারেটর ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজার যাচাই এবং নির্ভরযোগ্য ইম্পোর্টারের পরামর্শ গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। ক্রয়ের পূর্বে সঠিক মূল্য, স্টক এবং টেকনিক্যাল সাপোর্টের বিস্তারিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ জেনারেটরের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।
« Newer Older »