বাংলাদেশে ১৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের দাম এবং সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

বাংলাদেশে শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল এবং বড় আবাসন প্রকল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ১৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকরী সমাধান। দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সাময়িক বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সময় ব্যবসা ও উৎপাদনের গতি বজায় রাখতে সঠিক ব্র্যান্ড ও ক্ষমতার জেনারেটর নির্বাচন করা অপরিহার্য।

বাংলাদেশে ১৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটরের দাম এবং সম্পূর্ণ নির্দেশিকা


যে কোনো ক্রেতা জেনারেটর কেনার কথা চিন্তা করলে, অন্তত একবার বাংলাদেশ জেনারেটর-এর সাথে যোগাযোগ না করে সিদ্ধান্ত নেন না। দেশে উন্নতমানের ডিজেল জেনারেটর আমদানি ও সরবরাহে বাংলাদেশ জেনারেটর একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বস্ত নাম।

১৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর কেন নির্বাচন করবেন?

১৫০ কেভিএ (kVA) বা প্রায় ১২০ কিলোওয়াট (kW) ক্ষমতার জেনারেটর মাঝারি ও বড় পরিসরের প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শ। এটি ভারী বিদ্যুৎ লোড সহজেই বহন করতে পারে।

  • উচ্চ কার্যক্ষমতা: একটানা দীর্ঘ সময় চললেও পারফরম্যান্সে ঘাটতি হয় না।

  • জ্বালানি সাশ্রয়ী: আধুনিক ডিজেল ইঞ্জিনগুলো প্রতি লিটার জ্বালাণিতে সর্বোচ্চ আউটপুট দেয়।

  • সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত স্পেয়ার পার্টস বাজারেই সহজলভ্য।

  • দীর্ঘস্থায়িত্ব: মজবুত তৈরি ও আন্তর্জাতিক মানের ক্যানোপির কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বাংলাদেশে ১৫০ কেভিএ জেনারেটরের বর্তমান মূল্য তালিকা

বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ১৫০ কেভিএ জেনারেটর পাওয়া যায়। ব্রান্ড, ইঞ্জিনের দেশ এবং ক্যানোপির (সাউন্ডপ্রুফ বা ওপেন) ওপর ভিত্তি করে দামের তারতম্য হয়।

জেনারেটর ব্র্যান্ডইঞ্জিনের উৎস/অরিজিনআনুমানিক মূল্য পরিসীমা (BDT)
Ricardo (রিকার্ডো)চীন (China)৳ ৯,৫০,০০০ - ৳ ১৩,৫০,০০০
Evol (ইভোল)চীন / গ্লোবাল (Global)৳ ১৮,৫০,০০০ - ৳ ২১,০০,০০০
Cummins (কামিন্স)আমেরিকা / চীন (USA/China)৳ ১৭,০০,০০০ - ৳ ২৯,৫০,০০০
Perkins (পারকিন্স)যুক্তরাজ্য (UK)৳ ২৮,৫০,০০০ - ৳ ৪০,৫০,০০০
(নোট: বাজারের ডলার রেট, কাস্টমস ডিউটি এবং স্পেসিফিকেশনের ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তন হতে পারে। সঠিক এবং হালনাগাদ তথ্যের জন্য সরাসরি বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।)

শীর্ষস্থানীয় ৪টি ১৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর ব্র্যান্ডের বিস্তারিত

১. রিকার্ডো (Ricardo) ১৫০ কেভিএ জেনারেটর

কম বাজেটের মধ্যে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের জন্য রিকার্ডো জেনারেটর বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

  • সুবিধা: সাশ্রয়ী মূল্য, সহজলভ্য পার্টস এবং সহজ রক্ষণাবেক্ষণ।

  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: মাঝারি কারখানা, রাইস মিল, বাণিজ্যিক প্লাজা এবং আবাসন প্রকল্প।

২. ইভোল (Evol) ১৫০ কেভিএ জেনারেটর

ইভোল ব্র্যান্ডটি উন্নত প্রযুক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের জন্য সুপরিচিত।

  • সুবিধা: শব্দদূষণ মুক্ত সাইলেন্ট ক্যানোপি, আধুনিক ডিজিটাল কন্ট্রোল প্যানেল এবং চমৎকার ফুয়েল এফিছিয়েন্সি।

  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: করপোরেট অফিস, শপিং মল এবং স্পেশাল প্রজেক্ট।

৩. কামিন্স (Cummins) ১৫০ কেভিএ জেনারেটর

আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি কামিন্স জেনারেটর বিশ্বজুড়ে ভারী শিল্পের ভারী লোড বহনের জন্য বিখ্যাত।

  • সুবিধা: দ্রুত লোড নেওয়ার ক্ষমতা, উচ্চ স্থায়িত্ব এবং একটানা দীর্ঘ সময় চালানোর উপযোগী।

  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: টেক্সটাইল মিল, মেগা প্রজেক্ট, হাসপাতাল এবং ডেটা সেন্টার।

৪. পারকিন্স (Perkins) ১৫০ কেভিএ জেনারেটর

ইউকে (UK) অরিজিনের পারকিন্স জেনারেটর প্রিমিয়াম কোয়ালিটি এবং সর্বোচ্চ বিশ্বস্ততার প্রতীক।

  • সুবিধা: সর্বনিম্ন জ্বালানি খরচ, অত্যন্ত কম শব্দ এবং বহু বছরের টেকসই সার্ভিস।

  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন এবং আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল।

ওপেন বনাম সাউন্ডপ্রুফ (সাইলেন্ট) জেনারেটর: কোনটি বেছে নেবেন?

১৫০ কেভিএ জেনারেটর কেনার আগে ওপেন টাইপ এবং সাইলেন্ট টাইপের পার্থক্য জানা জরুরি।

বৈশিষ্ট্যওপেন টাইপ জেনারেটরসাউন্ডপ্রুফ (সাইলেন্ট) জেনারেটর
শব্দশব্দ বেশি হয়শব্দ অনেক কম (সাউন্ডপ্রুফ ক্যানোপি থাকে)
ব্যবহারের স্থানখোলা জায়গা বা আলাদা জেনারেটর রুমলোকালয়, হাসপাতাল বা অফিসের পাশে
সুরক্ষাবৃষ্টি বা ধুলোবালি থেকে আলাদা সুরক্ষা লাগেআবহাওয়া প্রতিরোধী বডি কাঠামো
মূল্যতুলনামূলক কমক্যানোপির জন্য খরচ কিছুটা বেশি

জেনারেটর কেনার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত

১. প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ লোড হিসাব করা: আপনার প্রতিষ্ঠানের মোট কত কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন তা সঠিক প্রকৌশলী দিয়ে মেপে নিন।
২. অটো ট্রান্সফার সুইচ (ATS): বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, সে জন্য মানসম্মত এটিএস প্যানেল ব্যবহার করুন।
৩. ওয়ারেন্টি এবং আফটার সেলস সার্ভিস: কেনার আগে বিক্রয়োত্তর সেবার শর্তাবলি ভালো করে দেখে নিন।
৪. ইনস্টলেশন ও ক্যাবলিং: জেনারেটরের সাথে প্রপার আর্থিং এবং সঠিক সাইজের তামার ক্যাবল নিশ্চিত করুন।

কেন "বাংলাদেশ জেনারেটর" থেকে কিনবেন?

বাংলাদেশে ডিজেল জেনারেটর সরবরাহে বাংলাদেশ জেনারেটর বিশ্বস্ততার সাথে সেবা দিয়ে আসছে। যদি কেউ গুণগত মানসম্পন্ন জেনারেটর কিনতে চান, তবে কেনাকাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত একবার বাংলাদেশ জেনারেটর-এর সাথে পরামর্শ বা যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

  • অরিজিনাল পণ্যের নিশ্চয়তা: শতভাগ আসল রিকার্ডো, ইভোল, কামিন্স এবং পারকিন্স জেনারেটর সরবরাহ।

  • দেশব্যাপী ইনস্টলেশন ও সার্ভিস: অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দ্বারা সমগ্র বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ে ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ।

  • জরুরি স্পেয়ার পার্টস সাপোর্ট: যে কোনো মডেলের অরিজিনাল পার্টস সবসময় তাদের কাছে প্রস্তুত থাকে।

  • ন্যায্য মূল্য: সরাসরি আমদানিকারক হওয়ায় সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক দামে জেনারেটর প্রদান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ)

প্রশ্ন: ১৫০ কেভিএ জেনারেটর প্রতি ঘণ্টায় কত লিটার ডিজেল খরচ করে?

উত্তর: এটি লোডের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ৭৫% থেকে ১০০% লোডে এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ থেকে ২৮ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে।

প্রশ্ন: জেনারেটরের সাথে কি ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ জেনারেটর থেকে জেনারেটর ক্রয় করলে ১ বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: আবাসিক এলাকার জন্য কোন জেনারেটরটি উপযুক্ত?

উত্তর: আবাসিক এলাকা বা অফিসের জন্য সাউন্ডপ্রুফ ক্যানোপিসহ পারকিন্স, কামিন্স বা ইভোল জেনারেটর সবচেয়ে উপযুক্ত, যা শব্দদূষণ মুক্ত থাকে।

১৫০ কেভিএ ডিজেল জেনারেটর আপনার ব্যবসা বা শিল্প কারখানার একটি বড় বিনিয়োগ। সঠিক ব্র্যান্ড ও নির্ভরযোগ্য আমদানিকারক নির্বাচন করে আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখুন। যে কোনো মডেলের কোটেশন, টেকনিক্যাল পরামর্শ বা অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ জেনারেটর-এর সাথে যোগাযোগ করুন।

« Newer Older »